ভোটের আগে কমিশনের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, উদ্ধার বিপুল নগদ ও ৫০০ কোটি টাকার মদ-মাদক!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে রাজ্যে নিরাপত্তার এক উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে রাজ্যজুড়ে উদ্ধার হয়েছে ৩৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৯৮ রাউন্ড গুলি। বিপুল পরিমাণ এই অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও, কমিশন বিষয়টিকে তাদের কড়া নজরদারির সাফল্য হিসেবেই দেখছে। মূলত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়েছে।
বিস্ফোরক ও লাইসেন্সধারী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ
শুধুমাত্র আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১,৩৪৮টি দেশি বোমা এবং ২২২.৫৭ কেজির বেশি বিস্ফোরক। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে দুষ্কৃতী মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। পাশাপাশি, আইনি অস্ত্রের অপব্যবহার রুখতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে কমিশন। রাজ্যে থাকা মোট ৫২,৮৬৯টি লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মধ্যে ৪১,৭০৬টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোট চলাকালীন ব্যক্তিগত অস্ত্রের মাধ্যমে হিংসা ছড়ানোর আশঙ্কা অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ
ভোটারদের প্রভাবিত করার অপচেষ্টা রুখতেও বড়সড় সাফল্য মিলেছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে চালানো অভিযানে নগদ টাকা, অবৈধ মদ, মাদক এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী মিলিয়ে মোট ৫৩২.৮৮ কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি থেকে প্রায় ২৩.৪৯ লক্ষেরও বেশি দেওয়াল লিখন ও অবৈধ বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন।
এক ঝলকে
- ১৫ মার্চ থেকে অভিযানে ৩৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৮ রাউন্ড গুলি এবং ২২২.৫৭ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।
- মোট ৫৩২.৮৮ কোটি টাকার নগদ, মদ ও মাদক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
- ৪১,৭০৬টি লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা করার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
- ১,৩৪৮টি দেশি বোমা উদ্ধারের পাশাপাশি ২৩.৪৯ লক্ষ দেওয়াল লিখন ও বিজ্ঞাপন মুছে ফেলা হয়েছে।
