“আমাদের ভাঁড়ার শূন্য, ভারতের হাতে ৭০ দিনের তেল!” খোদ পাক মন্ত্রীর কণ্ঠে ঝরল চরম হাহাকার

“আমাদের ভাঁড়ার শূন্য, ভারতের হাতে ৭০ দিনের তেল!” খোদ পাক মন্ত্রীর কণ্ঠে ঝরল চরম হাহাকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হওয়ায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলি মালিক এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানে আপৎকালীন ব্যবহারের জন্য কোনো ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুদ নেই। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ বাণিজ্যিক তেল রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র কয়েকদিন চলা সম্ভব। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের বিশাল জ্বালানি মজুদের উদাহরণ টেনে নিজ দেশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।

জ্বালানি মজুদে ভারত ও পাকিস্তানের আকাশ-পাতাল পার্থক্য

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির কাছে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেল এবং বিপণন সংস্থাগুলোর কাছে ২০-২১ দিনের পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য অবশিষ্ট রয়েছে। বিপরীতে ভারতের সক্ষমতা তুলে ধরে তিনি জানান, ভারতের কাছে ৬০-৭০ দিনের বিশাল মজুদ রয়েছে এবং তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যেকোনো সময় তেল সংগ্রহ করার সামর্থ্য রাখে। উল্লেখ্য, ভারতের কৌশলগত তেলের মজুদ ক্ষমতা প্রায় ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন, যা দিয়ে দীর্ঘ সময় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।

অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব

জ্বালানি সংকটের এই ভয়াবহ চিত্র পাকিস্তানের নড়বড়ে অর্থনীতির প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৌশলগত মজুদ না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বা সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যেখানে ইরান ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানের এই শূন্য মজুদ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • পাকিস্তানে কোনো কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ বা স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই বলে জানিয়েছেন পাক মন্ত্রী আলি মালিক।
  • দেশটিতে বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং ২০-২১ দিনের পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য মজুদ রয়েছে।
  • ভারতের ৬০-৭০ দিনের মজুদের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে নিজ দেশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি মন্ত্রী।
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রমানে জ্বালানি সংকটের কারণে পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *