এমন ভোট আগে কখনও দেখিনি, মিত্র ইনস্টিটিউটে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা

এমন ভোট আগে কখনও দেখিনি, মিত্র ইনস্টিটিউটে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা

নিজের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন নজিরবিহীন নির্বাচন আর দেখেননি বলে দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টে নাগাদ ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউটে ভোটদান শেষে বেরিয়েই তিনি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ১৯৮৪ সালে হেভিওয়েট সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে সংসদীয় রাজনীতি শুরু করা তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানান, এর আগে বহু ভোট পরিচালনা ও অংশগ্রহণ করলেও বর্তমান পরিস্থিতির মতো হেনস্থা ও অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়নি সাধারণ মানুষকে।

বাহিনী ও কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের মূল নিশানায় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন। তাঁর দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত বাহিনী এখন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা করে দিচ্ছে। ভবানীপুর, কালীঘাট ও চেতলা এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহিলা ও শিশুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া রানাঘাট, বাগদা, আরামবাগ ও ক্যানিংয়ের মতো বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শান্ত থাকার বার্তা ও জয়ের আত্মবিশ্বাস

নির্বাচনী ময়দানে উত্তেজনার আবহে কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, ভোটারদের মারধর ও নির্যাতন করে জনমত পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত। তবে এত বাধার পরেও নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত মমতা। মিত্র ইনস্টিটিউটের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ‘ভিক্ট্রি সাইন’ দেখানোর পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

এক ঝলকে

  • মিত্র ইনস্টিটিউটে ভোটদান শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ চার দশকে এমন ‘অত্যাচারের ভোট’ দেখেননি বলে দাবি তৃণমূল সুপ্রিমোর।
  • ভবানীপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ।
  • প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাস প্রকাশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *