ভোট দিতে যাওয়াই কি কাল হলো? কেন্দ্রীয় জওয়ানের ‘ধাক্কায়’ প্রাণ গেল বৃদ্ধের, উত্তাল উদয়নারায়ণপুর!

গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির সাক্ষী থাকল হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর। বুধবার দুপুরে কুরিট গ্রামের বলরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪৫ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন পূর্ণচন্দ্র দলুই (৮০) নামে এক বৃদ্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সংশ্লিষ্ট এলাকা। শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ধাক্কাধাক্কি ও মর্মান্তিক মৃত্যু
মৃতের ছেলের দাবি অনুযায়ী, অশীতিপর পূর্ণচন্দ্রবাবু একাকী হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তাই ভোটদান কক্ষে বাবাকে সাহায্য করার জন্য সঙ্গে যেতে চেয়েছিলেন ছেলে। কিন্তু বুথের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাতে বাধা দেন। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হলে এক জওয়ান সজোরে তাঁদের ধাক্কা মারেন বলে অভিযোগ। ধাক্কার চোটে বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে যান। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তীব্র উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুথ চত্বরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কেন একজন বৃদ্ধ মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গ্রামবাসীরা। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্তব্যরত জওয়ানের এমন অপেশাদার ও অসংবেদনশীল আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- উদয়নারায়ণপুরের কুরিট গ্রামে ভোট দিতে গিয়ে ৮০ বছর বয়সী পূর্ণচন্দ্র দলুইয়ের মৃত্যু।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ধাক্কায় বৃদ্ধ মাটিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের অভিযোগ।
- হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
- এই ঘটনায় শোকের ছায়া নামার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।
