‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন ভারত’, বিশ্বমঞ্চে নয়া কূটনীতির মন্ত্র দিলেন এস. জয়শঙ্কর!

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১১তম মিশন প্রধানদের সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ও বিশ্বমঞ্চে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। গত এক দশকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে ভারতীয় কূটনীতি এখন অনেক বেশি সক্রিয়। বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত নিজেকে প্রস্তুত করেছে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব
সম্মেলনের পাশাপাশি ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েলা সোমারফেল্ড রোসেরোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন জয়শঙ্কর। বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে উভয় দেশ ‘কুইক ইমপ্যাক্ট প্রজেক্টস’ (QIP) অর্থায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। ইকুয়েডরের আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সে যোগদানের সিদ্ধান্তকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে, যা দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বের ইঙ্গিত দেয়।
জাতিসংঘের সংস্কার ও বর্তমান বাস্তবতা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আগামী অধিবেশনের প্রাক্কালে এস. জয়শঙ্কর সংস্থাটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘সংস্কৃত বহুমুখিতা’ (Reformed Multilateralism) গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটের মতো বিষয়গুলো ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।
এক ঝলকে
- গত ১০ বছরে বিশ্বমঞ্চে ভারতের অংশগ্রহণ ও প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ইকুয়েডরের সঙ্গে বাণিজ্য, ডিজিটাল ক্ষেত্র এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- জাতিসংঘের সংস্কার এবং গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে ভারত।
- বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
