রাফাল আর যুদ্ধজাহাজ নামানোই শুধু বাকি! কমিশন ও বাহিনীর ভূমিকায় অগ্নিশর্মা অভিষেক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের দিনে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশের সীমান্তের মতো আচরণ করা হচ্ছে সাধারণ ভোটারদের সাথে, যেখানে কেবল যুদ্ধবিমান ও রণতরী নামানোই বাকি রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা ও আইনি প্রশ্ন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির ছিল মূলত বিশেষ পর্যবেক্ষক এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা আইপিএস অফিসারদের দিকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বি এন এস (BNS) বা সিআরপিসি-র কোন ধারায় কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে? তাঁর দাবি, পর্যবেক্ষকদের কাজ রিপোর্ট দেওয়া, সরাসরি ধমকানো বা চমকানো নয়। উত্তরপ্রদেশের আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিশানা করে তিনি বলেন, কিছু আধিকারিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে কেবল নিজেদের প্রচার পেতেই অতি-সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন।
ভোটের ফল ও জয়ের আত্মবিশ্বাস
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টার পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে ৩০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও এদিন তোলেন অভিষেক। তবে এই সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তৃণমূলের বিপুল জয় নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। তাঁর মতে, প্রথম দফার ভোটেই বিরোধীদের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে এবং ৪ মে ব্যালট বক্স খুললে দেখা যাবে যে, ২০২১ সালের চেয়েও বড় জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় ক্ষমতা দখল করছে। জনরোষের মাধ্যমেই মানুষ এই ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের যোগ্য জবাব দিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এক ঝলকে
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতি-সক্রিয়তাকে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তের যুদ্ধের সাথে তুলনা করে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের।
- নিয়মবহির্ভূতভাবে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর অভিযোগে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।
- উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা পুলিশ আধিকারিকদের ‘অতি-সক্রিয়তা’ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ।
- ২০২১ সালের চেয়েও বেশি আসন ও জনসমর্থন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ।
