ভোট মিটলেই ব্রাত্য! গণনার পর কোথায় যায় হাজার হাজার ইভিএম? জানলে অবাক হবেন

ভারতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইভিএম বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনকে ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। কারচুপি বা হ্যাক করার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা বারবার সরব হলেও নির্বাচন কমিশন বরাবরই এই যন্ত্রের ওপর আস্থা রেখেছে। তবে ভোটগ্রহণ থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত যে যন্ত্রটি আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে, কাজ ফুরোলে তার গন্তব্য কোথায় হয়, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।
কড়া নিরাপত্তায় ৪৫ দিনের অপেক্ষা
ভোটগণনা শেষ হওয়ার পর ইভিএমগুলিকে পুনরায় সিলগালা করে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ৪৫ দিন পর্যন্ত এই যন্ত্রগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী চাইলে আইনি পথে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানাতে পারেন। এই নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইভিএমের নিরাপত্তায় কোনো শিথিলতা আনা হয় না।
পরবর্তী গন্তব্য ও রক্ষণাবেক্ষণ
নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর ইভিএমগুলি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে চলে যায়। সাধারণত জেলা ট্রেজারির সুরক্ষিত কক্ষে এগুলি রাখা হয়। কক্ষের দরজায় দ্বিমুখী তালা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি থাকে, সাথে মোতায়েন থাকে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। পরবর্তী নির্বাচন না আসা পর্যন্ত এই ‘কুলিং-অফ পিরিয়ডে’ যন্ত্রগুলো অনেকটা অকেজোভাবেই পড়ে থাকে। তবে মাঝে মাঝে যান্ত্রিক পরীক্ষার মাধ্যমে এগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।
ভোটের দামামা বাজলে এই যন্ত্রগুলো আবারও সচল হয়ে ওঠে। তখন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ইভিএম পরীক্ষা করা হয় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জনসমক্ষে সেগুলোর মহড়া বা ‘মক পোল’ অনুষ্ঠিত হয়। মূলত আইনি জটিলতা এড়ানো এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী রাখতেই এই দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
এক ঝলকে
- ভোট গণনা শেষে ইভিএমগুলো পুনরায় সিলগালা করে স্ট্রংরুমে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়।
- আইনি প্রয়োজনে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ৪৫ দিন পর্যন্ত এগুলো সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
- নির্দিষ্ট সময় পর জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের ট্রেজারিতে সিসিটিভি ও পুলিশি পাহারায় যন্ত্রগুলো জমা থাকে।
- পরবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুনরায় ইভিএম পরীক্ষা করা হয়।
