বন্ধুরূপী শত্রুর চাল? ইরান যুদ্ধের আবহে কোণঠাসা পাকিস্তান, আমিরাতের সঙ্গে সৌদির দূরত্বে নয়া মোড়

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আপাতদৃষ্টিতে ব্যবসায়িক কারণ দেখালেও, এই সিদ্ধান্তের গভীরে রয়েছে সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই এবং ইরানের প্রভাব মোকাবিলার নতুন কৌশল। ওপেকের তেল উৎপাদন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ এবং ইয়েমেন যুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষকে সমর্থনের ফলে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে যে ফাটল তৈরি হয়েছিল, এই প্রস্থান সেই দূরত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
আঞ্চলিক মেরুকরণ ও নতুন মিত্র
ইরানের পক্ষ থেকে বারবার হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব ও কাতারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সামরিক সমর্থন না পাওয়া আমিরাতকে ক্ষুব্ধ করেছে। অন্যদিকে, সংকটের সময়ে ইসরায়েল তার অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ আমিরাতে মোতায়েন করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো আরব দেশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের এই ঘটনা একটি নতুন শক্তিশালী ব্লক তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিন ইস্যু ছাপিয়ে এখন ইরানবিরোধী অবস্থান ও নিরাপত্তা সহযোগিতাই আঞ্চলিক রাজনীতির মূল নিয়ামক হয়ে উঠছে।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ওপর প্রভাব
আমিরাতের এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়তে যাচ্ছে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তান। ইরান যুদ্ধে পাকিস্তানের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকা এবং সৌদি আরবের প্রতি ঝুঁকে থাকাকে ভালো চোখে দেখছে না আবুধাবি। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান থেকে বিনিয়োগ করা বড় অংকের অর্থ ফেরত চেয়েছে তারা। ওপেকের ওপর সৌদি আরবের যে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল, আমিরাতের বিদায়ে সেখানেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা এবং মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আমূল বদলে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে তেল রপ্তানিকারক সংস্থা ওপেক ত্যাগ করল সংযুক্ত আরব আমিরাত।
- ইরানের মোকাবিলায় সৌদি আরবের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েলের সাথে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে আবুধাবি।
- আরব ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি আয়রন ডোম মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে।
- পাকিস্তানের নিরপেক্ষ অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে বিনিয়োগ করা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
