আদা আর রসুন কি একসাথেই পিষে নিচ্ছেন? এই ভুল ভুলেও করবেন না, কোটি কোটি মানুষ করছেন এই একই কাজ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রতিদিন ভোরে ঠিক ৩টে থেকে ৫টার মধ্যে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া অনেকের কাছেই সাধারণ ঘটনা মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একে কেবল অনিদ্রা বা ক্লান্তি হিসেবে দেখা ভুল। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে ‘উলফ আওয়ার’ বলা হয়। এটি এমন এক সময় যখন মানুষের মস্তিষ্ক অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অবদমিত দুশ্চিন্তা কিংবা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির (সার্কাডিয়ান রিদম) গোলযোগের কারণেই মূলত এই নির্দিষ্ট সময়ে বারবার ঘুম ভেঙে যায়।
মানসিক চাপ ও হরমোনের প্রভাব
চিকিৎসকদের মতে, ভোর ৩টের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ শুরু করে। কিন্তু কেউ যদি আগে থেকেই মানসিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যান, তবে এই হরমোনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গিয়ে মস্তিষ্ককে আসাময়ে সজাগ করে দেয়। ফলে গভীর ঘুমের চক্র ব্যাহত হয়। এছাড়া এই সময়ে মানুষের অবচেতন মনের ভয় বা নেতিবাচক চিন্তাগুলো প্রকট হয়ে ওঠে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সুস্থ জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা
শরীরের জৈবিক ঘড়ি ঠিক রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত জরুরি। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা শোয়ার আগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং মন শান্ত করার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যানের পরামর্শ দিচ্ছেন। নিয়মিত ইয়োগা এবং ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখলে এই ‘উলফ আওয়ার’-এর অস্বস্তি কাটিয়ে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম সম্ভব। অন্যথায়, দীর্ঘদিনের এই অনিদ্রা শারীরিক ও মানসিক অবসাদ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এক ঝলকে
- ভোর ৩টে থেকে ৫টার সময়কে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ‘উলফ আওয়ার’ বলা হয়।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এই আসাময়ে জেগে ওঠার মূল কারণ।
- অনিয়মিত জীবনযাপন শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- নিয়মিত যোগব্যায়াম ও সঠিক সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর।
