অধিকাংশ সমীক্ষায় এগিয়ে বিজেপি, তবে পালটা তৃণমূলের ঝড়ের আভাস! কী বলছে বাংলার বুথ ফেরত সমীক্ষা?

বাংলায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিয়ে প্রকাশিত হলো এক্সিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষা। দুই দফার রেকর্ড ভোটের পর বিভিন্ন সংস্থার এই পূর্বাভাসে ক্ষমতার পটপরিবর্তন নাকি মমতার হ্যাটট্রিক পরবর্তী প্রত্যাবর্তন—তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ সংস্থার সমীক্ষায় বিজেপিকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও, পাল্টাপাল্টি পূর্বাভাসে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখনও কিছুটা ধোঁয়াশায়।
সমীক্ষায় কার পাল্লা ভারী
পি-মার্ক, ম্যাট্রিজ এবং টুডে’জ চাণক্যের মতো সংস্থাগুলি গেরুয়া শিবিরকেই সম্ভাব্য জয়ী হিসেবে দেখছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিজেপি ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গড়তে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১১৮ থেকে ১৪০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলায় দীর্ঘ কয়েক দশকের শাসনের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ব্যতিক্রমী পূর্বাভাস ও অনিশ্চয়তা
বিজেপিকে এগিয়ে রাখার ভিড়ে পিপলস পালসের সমীক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। এই সংস্থার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে পারে। তাদের হিসাবে বিজেপির আসন সংখ্যা একশোর নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত প্রান্তিক ভোটারদের প্রবণতা এবং নারী ভোটারদের পছন্দের ওপর ভিত্তি করে এই দুই বিপরীতধর্মী ফলাফল উঠে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলাফলের প্রভাব ও বাস্তবতা
বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলো অনেক সময় নিখুঁত হলেও তা চূড়ান্ত রায় নয়। রেকর্ড ভোট পড়ার অর্থ হতে পারে প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া অথবা সরকারের পক্ষে সুসংগঠিত জনসমর্থন। এই পূর্বাভাসের ফলে শেয়ার বাজার এবং রাজনৈতিক মহলে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও ৪ মে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বাংলার গ্রামীণ বনাম শহরকেন্দ্রিক ভোটের ব্যবধানই মূলত নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছর নবান্ন কার দখলে থাকবে।
এক ঝলকে
- পি-মার্ক ও টুডে’জ চাণক্যসহ বেশিরভাগ সমীক্ষায় বিজেপিকে সরকার গড়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
- ব্যতিক্রমীভাবে পিপলস পালসের পূর্বাভাসে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭৮-১৮৯ আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফেরার ইঙ্গিত পেয়েছে।
- বাম ও কংগ্রেস জোটের জন্য অধিকাংশ সমীক্ষাই শূন্য অথবা অত্যন্ত নগণ্য আসনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।
- বুথ ফেরত সমীক্ষা কেবলই একটি আভাস, চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ মে।
