সাতসকালে বুথে বুথে মমতা, তিন দশক পর চেনা ছক ভেঙে ভবানীপুরে ভিন্ন রণকৌশল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিরাচরিত নির্বাচনী রুটিনে বড়সড় বদল দেখল রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘ প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পর ভোটের দিন সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে বুথ পরিদর্শন ও দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে দেখা গেল তাঁকে। বুধবার ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলাকালীন সকাল ৮টা বাজতেই সাদা এসইউভি চেপে চেতলা ও চক্রবেড়িয়ার মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৮৪ বা ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের স্মৃতি উসকে দিয়ে নেত্রীর এই অতর্কিত সক্রিয়তা এবারের নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মাঠের লড়াইয়ে সরাসরি নেত্রী
সাধারণত ভোটের দিন বিকেল পর্যন্ত বাড়িতে থেকে নির্বাচনী তদারকি করার পর ভোট দিতে বের হন মমতা। তবে এদিন তিনি কেবল ঘুরলেনই না, বরং চক্রবেড়িয়ায় বুথের বাইরে চেয়ার পেতে বসে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলও নিলেন। দলীয় কাউন্সিলরকে আটকে রাখা বা এজেন্টদের গ্রেফতারের অভিযোগ পেয়েই তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রাস্তায় নেমে তিনি একদিকে যেমন নীচুতলার কর্মীদের উজ্জীবিত করেছেন, অন্যদিকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন।
পাল্টা চাপ ও প্রত্যাবর্তনের বার্তা
ভোটের দিন সকালে তাঁর এই সক্রিয়তাকে বিরোধীরা ‘চাপের মুখে নতিস্বীকার’ বলে কটাক্ষ করলেও মমতা নিজে একে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েও তিনি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। দিনের শেষে ভোট দিয়ে বেরিয়ে কালীঘাট মন্দিরে পূজা দেওয়ার বিষয়টিও ছিল তাঁর প্রথাগত অভ্যাসের বাইরে এক নতুন সংযোজন।
এক ঝলকে
- ১৯৮৯ সালের পর এই প্রথম ভোটের দিন সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দলীয় কর্মীদের হেনস্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তার অভিযোগে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান বিক্ষোভ করেন তিনি।
- নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত থেকে দেখালেন ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্ন।
- দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ভোটের দিন বিকেলে কালীঘাট মন্দিরে পূজা দিয়ে নজর কাড়লেন নেত্রী।
