‘বোনকে নিয়ে এসো তবেই টাকা দেব’, ব্যাঙ্কের শর্ত মানতে কবর খুঁড়লেন ভাই! অমানবিকতার সাক্ষী ওড়িশা

‘বোনকে নিয়ে এসো তবেই টাকা দেব’, ব্যাঙ্কের শর্ত মানতে কবর খুঁড়লেন ভাই! অমানবিকতার সাক্ষী ওড়িশা

ওড়িশার কেওনঝড়ের এক চরম অসহায় ভাইয়ের দীর্ঘ লড়াই অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখল। ব্যাঙ্কের কঠোর নিয়মের বেড়াজালে পিষ্ট জিতু মুন্ডা নিজের মৃত বোনের সঞ্চিত টাকা ফিরে পেতে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। নিয়মের অজুহাতে দিনের পর দিন এক দরিদ্র মানুষকে হয়রানি করার যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের তৎপরতা ও আর্থিক সহায়তা

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা প্রশাসন তড়িঘড়ি জিতু মুন্ডার পাশে দাঁড়িয়েছে। রেড ক্রস ফান্ডের পক্ষ থেকে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা নগদ সাহায্য দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে ডেথ সার্টিফিকেট পেতে জিতুকে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছিল, সেটিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তহশিলদার স্বয়ং ব্যাঙ্কে গিয়ে ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে জিতুর বোনের অ্যাকাউন্টে থাকা সুদসহ মোট ১৯,৪০২ টাকা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেছেন।

তদন্ত ও কঠোর নির্দেশ

ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কেন একজন নিরক্ষর মানুষকে “বোনকে সামনে নিয়ে এসো অথবা অকাট্য প্রমাণ দাও” বলে এমন অসহায় পরিস্থিতিতে ফেলা হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করার জন্য ব্যাঙ্ক ও সরকারি কর্মীদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত সিস্টেমের জটিলতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে একজন প্রান্তিক মানুষকে এমন চরম পথ বেছে নিতে হয়েছিল।

এক ঝলকে

  • ওড়িশার কেওনঝড়ের জিতু মুন্ডা তাঁর মৃত বোনের ১৯ হাজার টাকা ফেরত পেতে ব্যাঙ্কের কাউন্টারে কঙ্কাল নিয়ে হাজির হন।
  • ঘটনার জানাজানি হতেই জেলা প্রশাসন জিতুকে ৩০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা এবং বোনের ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান করেছে।
  • ব্যাঙ্কে থাকা মৃত বোনের সঞ্চিত টাকা সুদসহ ফেরত পেয়েছেন ওই ব্যক্তি।
  • অমানবিক আচরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *