৫ কনে বরযাত্রী নিয়ে পৌঁছালেন বরের বাড়ি, ১ মেয়ের হলো বিদায়! এই পরিবারে একসঙ্গে সম্পন্ন হলো ৬টি বিয়ে – এবেলা

৫ কনে বরযাত্রী নিয়ে পৌঁছালেন বরের বাড়ি, ১ মেয়ের হলো বিদায়! এই পরিবারে একসঙ্গে সম্পন্ন হলো ৬টি বিয়ে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চলের এক অনন্য সামাজিক রীতি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে। দেরাদুন জেলার খারসি গ্রামের এক যৌথ পরিবারের একই সঙ্গে ৬টি বিয়ের আয়োজন এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে দেখা গেছে এক বিচিত্র প্রথা, যেখানে পাঁচজন কনে নিজেরাই বরযাত্রী নিয়ে পৌঁছেছেন বরের বাড়িতে। আধুনিক যুগে যখন যৌথ পরিবার ভেঙে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে, তখন এই পাহাড়ঘেরা গ্রামের একতা সমাজকে নতুন বার্তা দিচ্ছে।

এক পরিবারের মিলনমেলা ও বৈচিত্র্যময় প্রথা

পেশায় ঠিকাদার দৌলত সিং চৌহানের এই বিশাল যৌথ পরিবারে বংশপরম্পরায় ঐক্যের সুর অটুট। জৌনসারি সংস্কৃতিতে ‘জঝোড়া’ নামক বিশেষ প্রথা প্রচলিত, যেখানে কনেরাই শোভাযাত্রা করে হবু স্বামীর ঘরে উপস্থিত হন। বুধবার খারসি গ্রামে যখন একসঙ্গে পাঁচজন কনে বা ‘জঝোতলি’ বিয়ে করতে বরের ভিটেয় এসে পৌঁছান, তখন এক অপার্থিব পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই উৎসবেরই অংশ হিসেবে একই আসর থেকে পরিবারের এক কন্যাকেও কনে হিসেবে অন্য এক বরযাত্রী দলের সাথে বিদায় জানানো হয়।

আর্থিক সাশ্রয় ও সামাজিক সম্প্রীতি

ব্যয়বহুল বিয়ের সংস্কৃতিকে পাশ কাটিয়ে এই যৌথ আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত মিতব্যয়ী ও সুশৃঙ্খল। পরিবারের সদস্যরা এবং গ্রামবাসীরা মনে করছেন, আলাদাভাবে অনুষ্ঠান না করে একসঙ্গে ৬টি বিয়ের আয়োজন করায় অপচয় অনেকটাই কমেছে। এই উদ্যোগ কেবল উৎসবের খরচই বাঁচায়নি, বরং আত্মীয়তার বন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। আধুনিক সমাজে পারিবারিক বিচ্ছেদ রুখতে এই ঘটনাটি এখন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক ঝলকে

  • উত্তরাখণ্ডের জৌনসার-বাওয়ার অঞ্চলের খারসি গ্রামে একই পরিবারে একসঙ্গে ৬টি বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
  • স্থানীয় ‘জঝোড়া’ প্রথা অনুযায়ী ৫ জন কনে বরযাত্রী নিয়ে বরের বাড়িতে হাজির হন এবং ১ জন কন্যাকে বিদায় জানানো হয়।
  • দৌলত সিং চৌহানের এই বিশাল যৌথ পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার নজির গড়েছেন।
  • অপচয় রোধ ও সামাজিক একতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই গণবিবাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *