ইভিএমে সেলোটেপ বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি! খোকাবাবুকে তীব্র আক্রমণ অধীর চৌধুরীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা শেষ হতেই ইভিএম কারচুপি ও বুথ দখল নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিশেষ করে বিভিন্ন বুথে ইভিএম মেশিনে সেলোটেপ লাগিয়ে রাখার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘খোকাবাবু’ সম্বোধন করে সরাসরি তোপ দেগেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, সন্ত্রাস ও লুঠপাটের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জয় সুনিশ্চিত করা হচ্ছে।
সন্ত্রাস ও প্রশাসনিক দালালি
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো মূলত সন্ত্রাস কবলিত এবং সেখানে ভোটারদের প্রভাবিত করতেই ইভিএম-এর বোতামে সেলোটেপ মারা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রশাসন আগেভাগেই কমিশনের পদক্ষেপ আঁচ করতে পেরে যাবতীয় ‘সেটিং’ সেরে রেখেছিল। পুলিশের বিরুদ্ধে শাসকদলের দালালি করার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, ৭-৮ লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জেতার রহস্য আসলে জনসমর্থন নয়, বরং পরিকল্পিত লুঠতরাজ।
কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতা
ইভিএম কারচুপি ও অশান্তির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ জমা পড়তেই নজিরবিহীনভাবে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশে বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারে অবস্থান করছেন। ফলতা, মগরাহাট ও সোনারপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে স্ক্রুটিনির কাজ। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় খোদ সিইসি কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভোটের উচ্চ হার ও নাগরিকত্বের আতঙ্ক
রেকর্ড পরিমাণ ভোটদানের হার নিয়েও নতুন এক তত্ত্ব খাড়া করেছেন অধীর চৌধুরী। তাঁর মতে, ৯০ শতাংশের ওপর ভোট পড়ার নেপথ্যে কেবল গণতন্ত্রের উৎসব নয়, বরং কাজ করছে গভীর আতঙ্ক। নাগরিকত্ব হারানোর ভয় এবং এসআইআর-এর দুশ্চিন্তা মানুষকে দলে দলে বুথমুখী করেছে বলে তিনি মনে করেন। ৪ মে ফলাফল প্রকাশের আগে এই ইভিএম বিতর্ক যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা নিশ্চিত।
এক ঝলকে
- ইভিএম-এর প্রতীকে সেলোটেপ লাগিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ।
- তৃণমূল নেতৃত্বকে ‘লুঠতরাজ’ ও ‘সন্ত্রাস’ ইস্যুতে কড়া ভাষায় আক্রমণ অধীর চৌধুরীর।
- অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ডায়মন্ড হারবারে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষকের স্ক্রুটিনি শুরু।
- নাগরিকত্ব বাঁচানোর আতঙ্ক থেকেই বিপুল ভোটদান হয়েছে বলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি।
