শ্মশানেই সাতপাক! চারদিকে জ্বলছে চিতা, মাঝখানে মালাবদল যুগলের; জানুন আসল ঘটনা

উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলায় এক অভিনব কিন্তু বিতর্কিত বিয়ের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গাজিয়াবাদের এক তরুণ-তরুণী নিজেদের বিবাহবাসর হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন একটি শ্মশানকে। সাধারণ বিয়ের আসর ছেড়ে শ্মশানঘাটে মালাবদল এবং বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করায় নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতার সংঘাত
মার্চুলা এলাকার রামগঙ্গা এবং বদনগড় নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি শ্মশানঘাটে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যেখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়, সেখানে এমন শুভ অনুষ্ঠান আয়োজন ধর্মীয় অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের পরম্পরাকে অপমান করার শামিল। অনেকে বিষয়টিকে নিছক সস্তা প্রচার পাওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছেন।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। তহশিলদার আবিদ আলী জানিয়েছেন, সরকারি জমিতে বা শ্মশানের মতো সংবেদনশীল স্থানে কোনো অনুষ্ঠান করতে হলে পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি। সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা স্থানটির গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করলেও নবদম্পতি জেদ করেই শ্মশানটিকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করেন। বর্তমানে নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- গাজিয়াবাদের এক দম্পতি উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ার একটি শ্মশানঘাটে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
- ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তোলেন।
- বিনা অনুমতিতে শ্মশানে অনুষ্ঠান করায় দম্পতি ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
- ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের নামে অদ্ভুত স্থান নির্বাচনের এই প্রবণতা জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
