“চুরি করা অপরাধ, ব্যবসা নয়!” ৯ ঘণ্টা জেরার পর বিস্ফোরক সুজিত বসু, কী জানালো ইডি?

“চুরি করা অপরাধ, ব্যবসা নয়!” ৯ ঘণ্টা জেরার পর বিস্ফোরক সুজিত বসু, কী জানালো ইডি?

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল এবার অনেক দূর গড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসু। টানা ৯ ঘণ্টা জেরার পর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এই বিশেষ মামলায় এর আগে তাঁকে তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও ভোটের ব্যস্ততার কারণে হাজিরা দেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ভোট মিটতেই ইডির মুখোমুখি হলেন এই হেভিওয়েট নেতা।

সাক্ষী না অভিযুক্ত?

সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বসু দাবি করেন, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং কেবল সাক্ষী হিসেবেই তাঁকে ডাকা হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসূত্র নেই এবং তদন্তকারীরাও তা জানেন। তবে নিজের ব্যবসা নিয়ে ওঠা গুঞ্জনের জবাবে তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়, চুরি করাটাই আসল অপরাধ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তদন্তে সাহায্যের আশ্বাস দিলেও অযথা হেনস্থা না করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মামলার প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

মূলত ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীন অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র খুঁজে পায় ইডি। সেই নথির ভিত্তিতেই সুজিত বসুর বাড়ি ও অফিসে এর আগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিয়োগ দুর্নীতির এই জট সুজিত বসুর মতো নেতার জন্য রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, তেমনই তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

এক ঝলকে

  • পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন সুজিত বসু।
  • টানা ৯ ঘণ্টা জেরার পর তিনি জানান যে, তদন্তে একজন সাক্ষী হিসেবে তিনি হাজিরা দিয়েছেন।
  • এর আগে তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও ২ মে ভোট পরবর্তী সময়ে তিনি প্রথমবার ইডির দপ্তরে যান।
  • অয়ন শীলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথির সূত্র ধরেই এই তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইডি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *