ইডি-র জালে ২১ পলাতক অপরাধী! নীরব-মাল্যর তালিকায় যুক্ত হলেন আরও নতুন নাম

দেশের বিচার ব্যবস্থা এড়াতে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সম্প্রতি প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীরব মোদী ও বিজয় মাল্যসহ মোট ২১ জনকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ (এফইও) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পলাতক ব্যক্তিদের ২,১৭৮ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে সংস্থাটি।
তালিকায় নতুন নাম ও বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির খতিয়ান
ইডির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন (এফইওএ) প্রয়োগ করে এ পর্যন্ত ৫৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯ জনকেই শনাক্ত করা হয়েছে গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে। বাজেয়াপ্ত করা ২,১৭৮.৩৪ কোটি টাকার সম্পত্তি সংস্থার সাফল্যের বড় নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই তালিকায় বিজয় মাল্য ও নীরব মোদী ছাড়াও রয়েছেন লন্ডনের অস্ত্র পরামর্শক সঞ্জয় ভাণ্ডারি এবং দাউদ ইব্রাহিমের সহযোগী ইকবাল মির্চির স্ত্রী হাজরা ইকবাল মেমন।
বিচারাধীন মামলা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হীরা ব্যবসায়ী মেহুল চোকসি, ইসলাম ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েক এবং মহাদেব বেটিং অ্যাপ কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সৌরভ চন্দ্রকর ও রবি উপ্পালকে পলাতক ঘোষণার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। নিয়ম অনুযায়ী, কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকার জালিয়াতি করে যারা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে দেশত্যাগ করেন এবং ফিরতে অস্বীকার করেন, তাঁদেরই ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাটির দাবি, গত দুই অর্থবর্ষে এই আইনের অধীনে ইডির কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল ও কার্যকর হয়েছে।
