পাকিস্তানে আবার ‘টার্গেট কিলিং’! এবার খতম হিজবুল কম্যান্ডার, একের পর এক জঙ্গি মৃত্যুতে ছড়াল আতঙ্ক

পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া তালিকাভুক্ত শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের একের পর এক রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি হিজবুল মুজাহিদিন ও লস্কর-ই-তৈবার মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রভাবশালী কমান্ডারদের সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে প্রাণ হারানোর ঘটনা এই অঞ্চলে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। জমানো তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ওপর কোনো এক অদৃশ্য শক্তি ক্রমাগত আঘাত হানছে।
পরপর নিকেশ হচ্ছে শীর্ষ কম্যান্ডাররা
জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার আহমেদ সাজ্জাদের রহস্যজনক মৃত্যু এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে আত্মগোপন করে কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এর পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা আবু সখর মাকসুদ আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফয়সালাবাদে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
অজ্ঞাত আততায়ীর হামলায় বাড়ছে উদ্বেগ
শুধু অসুস্থতা বা রহস্যময় মৃত্যু নয়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের লান্ডি কোটাল এলাকায় লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিলের এই হামলায় অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা জড়িত ছিল। একের পর এক শীর্ষ নেতার এই পতন পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সাংগঠনিক কাঠামোকে ভঙ্গুর করে দিচ্ছে। যদিও এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে পাকিস্তান সরকার এখনো কোনো দাপ্তরিক বিবৃতি দেয়নি।
এই ধারাবাহিক নির্মূল অভিযানের ফলে পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলো এখন তাদের জন্যই মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি অনুপ্রবেশের ছক এই ঘটনার প্রভাবে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এক ঝলকে
- পাকিস্তানে হিজবুল মুজাহিদিন ও লস্কর-ই-তৈবার তিন শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু হয়েছে।
- হিজবুল নেতা আহমেদ সাজ্জাদ ও লস্কর নেতা মাকসুদ আহমেদের মৃত্যু রহস্যে ঘেরা।
- ২৬ এপ্রিল লান্ডি কোটালে শেখ ইউসুফ আফ্রিদিকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা।
- এই ঘটনায় পাকিস্তানে আশ্রিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
