বাংলার মসনদে কার জয়? যুব ভোটারদের ‘সাইলেন্ট ভোটিং’-এ কি বড় কোনো অঘটন ঘটতে চলেছে?

বাংলার মসনদে কার জয়? যুব ভোটারদের ‘সাইলেন্ট ভোটিং’-এ কি বড় কোনো অঘটন ঘটতে চলেছে?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাহেন্দ্রক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক শিবিরের উৎকণ্ঠা ততই বাড়ছে। এবারের নির্বাচনে রাজ্যে ৯৩ শতাংশের রেকর্ড ভোটদান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ এবং প্রথমবারের ভোটারদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। বুথের লম্বা লাইন এবং নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, যুবসমাজের এই সক্রিয়তা যে কোনো দলের জয়ের পথে প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

কর্মসংস্থান ও নিয়োগ দুর্নীতি যখন মূল ইস্যু

প্রথাগত আদর্শিক লড়াইয়ের বাইরে এবারের নির্বাচনে তরুণদের কাছে কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছতা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং হাজার হাজার নিয়োগ বাতিলের ঘটনা যুবসমাজের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা এবং ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো তরুণ ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করেছে। নারী নিরাপত্তার ইস্যু এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের চাহিদাও এবার ব্যালট বাক্সে প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তরুণদের মন জয়ে রাজনৈতিক লড়াই

বাংলার মোট ৬.৪৪ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ১.৪ থেকে ১.৭ কোটি ভোটারই তরুণ প্রজন্মের। এই বিশাল সংখ্যক ‘কিংমেকার’ ভোটারদের টানতে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে ‘যুবশ্রী’ ও ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেখানে বিজেপি লিয়েন্ডার পেজের মতো মুখদের সামনে এনে এবং বেকার ভাতার অংক বাড়িয়ে তরুণদের কাছে টানতে চেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুব ভোটাররা এবার দলদাসের মতো ভোট না দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং কর্মসংস্থানের ‘ভিশন’ দেখে রায় দিয়েছেন।

রেকর্ড ভোটদানের এই প্রবণতা রাজ্যে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে নাকি বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে, তা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। যুব সমাজের এই ‘সাইলেন্ট ভোটিং প্যাটার্ন’ বা নীরব রায় যদি শেষ পর্যন্ত নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যায়, তবে নির্বাচনের ফলাফলে এক বড়সড় ওলটপালট বা ‘খেলা’ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এক ঝলকে

  • রাজ্যে ৯৩ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানে তরুণ ভোটাররাই প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন।
  • বাংলায় প্রতি চারজন ভোটারের মধ্যে একজন তরুণ, যা যেকোনো দলের ভাগ্য নির্ধারণে যথেষ্ট।
  • নিয়োগ দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং উচ্চশিক্ষা এবারের নির্বাচনে তরুণদের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু।
  • শাসক ও বিরোধী দল উভয়ই বিপুল অংকের বেকার ভাতা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুবকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *