ভোটারদের খুনের হুমকি! ফলতায় গ্রেফতার জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ ৩ তৃণমূল কর্মী, রাতভর মহিলাদের বিক্ষোভ

নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও অশান্তির আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। অন্য দলকে ভোট দেওয়ার অপরাধে গ্রামবাসীদের প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তিন তৃণমূল কর্মীকে। ধৃতরা ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকে হাসিমপুর গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের তির পঞ্চায়েত প্রধানের দিকে
স্থানীয় সূত্রের খবর, ফলতার হাসিমপুর গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দার ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বা অন্য দলকে ভোট দেওয়ায় গ্রামবাসীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান সুজাউদ্দিন শেখ এবং তৃণমূল নেতা ইসরাফিল চকদারের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের ‘খুনের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
পথে নামলেন মহিলারা
তৃণমূল নেতাদের এই দাদাগিরি ও হুমকির প্রতিবাদে রবিবার সকালে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন গ্রামের মহিলারা। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার পর এখন তাঁদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। বিক্ষোভকারী মহিলাদের বক্তব্য:
“আমরা আমাদের পছন্দমতো ভোট দিয়েছি, এটাই কি আমাদের অপরাধ? তৃণমূলের নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে যে ফল কাটার পর (ফলাফল ঘোষণা) আমাদের গ্রাম ছাড়া করা হবে, এমনকি মেরে ফেলারও ভয় দেখানো হচ্ছে।”
পুলিশি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি
দিনভর বিক্ষোভ এবং উত্তেজনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের করার পর পুলিশ তদন্তে নামে। প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে জাহাঙ্গির ঘনিষ্ঠ ওই তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পঞ্চায়েত প্রধান সুজাউদ্দিন শেখ এবং নেতা ইসরাফিল চকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
থলথলে ফলতায় কড়া নজরদারি
আগামীকাল, সোমবার ভোটের ফলাফল ঘোষণা। তার আগে ফলতার হাসিমপুর এবং আশপাশের এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ না বাঁধে, তার জন্য পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে খবর। এই গ্রেফতারির ফলে এলাকায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও গণনার দিন অশান্তির আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না জেলা প্রশাসন।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
