গণনাকেন্দ্রে বড় রদবদল, চুক্তিকর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের

গণনাকেন্দ্রে বড় রদবদল, চুক্তিকর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের

ভোট গণনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো রকম কারচুপির আশঙ্কা এড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার, ২ মে এক বিশেষ নির্দেশিকায় কমিশন জানিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কোনো গণনাকেন্দ্রেই কোনো অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী (Casual/Contractual Workers) ব্যবহার করা যাবে না। গণনার মূল প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ইভিএম বক্স সীল করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তাঁদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কমিশনের কড়া নির্দেশ ও সুপ্রিম কোর্টের প্রেক্ষাপট

শনিবার সুপ্রিম কোর্টে ভোট গণনায় কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার শুনানির পরই এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনকে তাদের ১৩ এপ্রিলের সার্কুলার ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পালন করতে হবে। ওই সার্কুলার অনুযায়ী, গণনার তদারকিতে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য উভয় সরকারি স্থায়ী কর্মীদেরই সমমর্যাদায় ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অস্থায়ী কর্মীদের গণনার মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় রাখা যাবে না।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

সাধারণত ইভিএম বক্স সীল করা বা গণনাকেন্দ্রের যান্ত্রিক কারিগরি সহায়তা দিতে অনেক সময় অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু কমিশনের মতে:

  • স্বচ্ছতা বজায় রাখা: অস্থায়ী কর্মীদের দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
  • প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা: স্থানীয় স্তরে অস্থায়ী কর্মীরা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির।
  • ইভিএম সীলিং: ইভিএম বক্স সীল করার বিষয়টি গণনার একটি অবিচ্ছেদ্য এবং গোপনীয় অংশ। এটি কোনোভাবেই চুক্তিকর্মীদের হাতে ছাড়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধুমাত্র স্থায়ী কর্মীদেরই দায়িত্ব

কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, দুই মেদিনীপুরের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) নজর রাখতে হবে যাতে শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মীরাই (কেন্দ্রীয় বা রাজ্য) এই দায়িত্ব পালন করেন। প্রয়োজনে অন্য বিভাগ থেকে স্থায়ী কর্মী এনে এই ঘাটতি মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল। তার আগে এই নির্দেশ জেলার রাজনৈতিক উত্তাপকে কিছুটা শান্ত করবে এবং গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *