ইভিএম পাহারায় বিজেপির ‘মাতৃশক্তি’! রাজ্যের সব স্ট্রংরুমের সামনে রাত জাগবেন মহিলা কর্মীরা

আগামীকাল ৪ মে রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে ইভিএম (EVM)-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভিনব কৌশল নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। স্ট্রংরুমের সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরণের কারচুপি রুখতে আজ, রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের সামনে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা।
পাহারায় মহিলা বাহিনী
বিজেপি নেতৃত্বের নির্দেশে আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় স্ট্রংরুমের প্রবেশপথের কাছে জমায়েত শুরু করেছেন দলের মহিলা মোর্চার সদস্যরা। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো:
- তীর্যক নজরদারি: স্ট্রংরুমের গেট এবং সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা।
- অনধিকার প্রবেশ রোখা: গণনাকর্মী বা আধিকারিকদের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তির সন্দেহজনক প্রবেশ ঠেকাতে ব্যারিকেড গড়ে তোলা।
- রাতভর পাহারা: রবিবার সারারাত স্ট্রংরুমের সামনেই অবস্থান করবেন এই কর্মীরা। সোমবার সকালে দলের কাউন্টিং এজেন্ট এবং প্রার্থীরা গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর তাঁরা দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
বিজেপির রণকৌশল
তৃণমূল কংগ্রেস যেমন গত কয়েকদিন ধরে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে, তেমনই পাল্টা চালে বিজেপিও এখন ‘ইভিএম সুরক্ষা’কে হাতিয়ার করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে এবং নৈতিকভাবে চাপ বজায় রাখতেই প্রমীলা বাহিনীকে সামনে রাখা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর ভরসা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা নেই, তাই এই বাড়তি সতর্কতা।
তৎপর জেলা নেতৃত্ব
কলকাতা থেকে কোচবিহার—সর্বত্রই দলীয় প্রার্থীরা আজ স্থানীয় স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে মহিলা কর্মীদের এই অবস্থানকে সংহতি জানাচ্ছেন। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে আমাদের কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবেন। কারচুপির সামান্যতম প্রচেষ্টাও বরদাস্ত করা হবে না।”
সোমবারের মেগা গণনার আগে এই ‘স্ট্রংরুম পাহারা’কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন টানটান উত্তেজনা।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
