কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত! ৪ মে গণনা হলেও ফলপ্রকাশ হচ্ছে না ফলতার, ২১ মে গোটা কেন্দ্রে ফের ভোট

ভোটের দিন দফায় দফায় অশান্তি এবং কারচুপির ভূরি ভূরি অভিযোগের জেরে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আগামী ২১ মে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। এর ফলে আগামী ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হলেও ফলতার জয়-পরাজয় ঝুলে থাকবে আরও তিন সপ্তাহ।
ফলতার ভোটের নতুন নির্ঘণ্ট:
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ফলতার ফলাফল স্থগিত রেখে রাজ্যের বাকি অংশের গণনা প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়েই সম্পন্ন হবে। ফলতার জন্য নির্ধারিত নতুন সূচি হলো:
- পুনর্নির্বাচনের তারিখ: ২১ মে, ২০২৬ (মঙ্গলবার)
- বুথ সংখ্যা: ওই বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথেই পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে।
- গণনার তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন ফলতার বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ইভিএম ভাঙচুর থেকে শুরু করে বুথ দখল ও ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের দফতরে। বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং রিটার্নিং অফিসারদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে, ওই দিন ফলতায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব হয়নি। তাই কেবল কয়েকটি বুথ নয়, পুরো কেন্দ্রেই ফের জনমত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব
৪ মে রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর যদি কোনো দল বা জোট ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি আটকে থাকে, তবে ফলতার এই একটি আসন নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। ফলপ্রকাশের তিন সপ্তাহ পর আবার একটি পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২৪ মে পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে যথেষ্ট চড়া থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
