রেকর্ড সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির: এক বছরে ৮১ হাজার কোটি উদ্ধার, কমেছে গ্রেফতারির হার

আর্থিক তছরুপ রোধে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নজিরবিহীন সাফল্য দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সাম্প্রতিক সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে সংস্থাটি মোট ৮১ হাজার ৪২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা ইডির ইতিহাসে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি উদ্ধারের পাশাপাশি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে—পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে গ্রেফতারির সংখ্যা।
রেকর্ড বাজেয়াপ্ত বনাম নিম্নমুখী গ্রেফতারি
ইডির দেওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবর্ষে দেশজুড়ে ২ হাজার ৮৯২টি তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র ১৫৬ জন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা ছিল ২১৪ এবং ২০২৩-২৪ সালে ছিল ২৭২। অর্থাৎ, এক বছরে গ্রেফতারির হার কমেছে প্রায় ২৭ শতাংশ। এই বৈপরীত্যের ব্যাখ্যায় ইডি জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ‘প্রমাণভিত্তিক লক্ষ্যভিত্তিক তদন্ত’ বা এভিডেন্স-বেসড ইনভেস্টিগেশনের ওপর জোর দিচ্ছে, যার ফলে কেবল অকাট্য প্রমাণ থাকলেই গ্রেফতারি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিমাণ বেড়েছে ১৭১ শতাংশ।
দ্রুত তদন্ত ও প্রতারিতদের অর্থ ফেরত
রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইডির মামলা নিষ্পত্তির গতি আগের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে একটি মামলার নিষ্পত্তি হতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে গড়ে ১ থেকে ১.৫ বছরে। তদন্ত পদ্ধতির এই আধুনিকীকরণ মামলার দ্রুত জট খুলতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের থেকে আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও জারি রেখেছে সংস্থাটি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিভিন্ন মামলায় ভুক্তভোগীদের কাছে ১৫ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তদন্ত ও লেটার্স রোটেটরি
তদন্তের জাল দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বিস্তার করেছে ইডি। তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৫৩টি মামলার আন্তর্জাতিক স্তরে নিষ্পত্তি হওয়া বাকি আছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৯টি মামলা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আবার বিদেশি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্রিটেন সবচেয়ে বেশি সহযোগিতার অনুরোধ পাঠিয়েছে ইডির কাছে।
তদন্তকারী সংস্থার এই নতুন কৌশল—অর্থাৎ গ্রেফতারি কমিয়ে বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি—আগামী দিনে আর্থিক অপরাধ দমনে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার।
