ভোট পরবর্তী হিংসার আশঙ্কা: গণনার আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৮ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম মেদিনীপুর। ভোট পরবর্তী সম্ভাব্য রাজনৈতিক হিংসা মোকাবিলা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জেলায় এসে পৌঁছেছে ১৮ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী। মূলত জয়-পরাজয় নির্ধারিত হওয়ার পর বিজয় মিছিল বা উদযাপনে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া নজরদারি
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, প্রচার পর্ব থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত জেলার বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়েছে। সেই অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ টহলদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত নির্বাচনে যে সমস্ত গ্রামে বা বুথ এলাকায় বড়সড় সংঘর্ষ হয়েছিল, সেগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে রুট মার্চ শুরু করেছে বাহিনী। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশও সদা তৎপর থাকবে।
গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা বলয়
জেলায় এবার মোট চারটি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে:
- মেদিনীপুর কলেজ
- মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল
- খড়গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়
- ঘাটাল কলেজ
এই চারটি কেন্দ্রেই ইতিমধ্যেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। গণনা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জটলা করতে না পারে।
জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ এবং পুলিশ সুপার যৌথভাবে প্রতিটি গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জয়ী পক্ষ বা পরাজিত পক্ষ—যেই হোক না কেন, অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৪ মে সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভাগ্য নির্ধারণ হবে জেলার বিধানসভা আসনগুলোর।
