রেকর্ড ভোটদান না কি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া? সোমবারই নির্ধারিত হবে বাংলার ভাগ্য

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ ফলাফল ঘোষণার অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য। সোমবার সকাল থেকেই শুরু হবে ভোটগণনা। রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় ইতিমধ্যেই এই নির্বাচন জায়গা করে নিয়েছে একাধিক কারণে—যার মধ্যে রয়েছে নজিরবিহীন ৯২ শতাংশ ভোটদান এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতাহীন এক নতুন পরিবেশ। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির স্নায়ুযুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালা আগামীকাল নির্ধারিত হতে চলেছে।
ভোটের হার ও জনবিন্যাসের নয়া সমীকরণ
এবারের নির্বাচনে ৯২ শতাংশেরও বেশি ভোটদান গত কয়েক দশকের সমস্ত রেকর্ড ম্লান করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি ফিরে ভোট দেওয়া এই বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ। প্রথম দফার ১৫২টি আসনে গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে গ্রামীণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব বেশি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে শহুরে ভোটারদের প্রাধান্য বেশি থাকায় সেখানে জনমতের প্রতিফলন ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিপুল ভোটবৃদ্ধি কার পালে হাওয়া দেবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তৃণমূলের দুর্গ না কি বিজেপির উত্থান: লড়াইয়ের মূল ফ্যাক্টর
তৃণমূলের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারসহ একাধিক জনমুখী প্রকল্প এবং বুথস্তরে তাদের মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ভোটার এবং জঙ্গলমহলে ফিরে পাওয়া জমি শাসকদলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। অন্যদিকে, বিজেপি ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া, আরজি কর বা কসবার মতো ঘটনায় নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করেছে। এছাড়া, আলু চাষিদের অসন্তোষ এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় রাজনৈতিক মেরুকরণ বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্ণায়ক ভূমিকা ও তৃতীয় শক্তি
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ধরা হচ্ছে এসআইআর তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাকে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ক্ষোভ বা সমর্থন কোন দিকে যাবে, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক আসনের ভাগ্য। পাশাপাশি বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কতটা ভোট নিজেদের দিকে টানতে পারবে, তাও গুরুত্বপূর্ণ। যদি তারা তৃণমূল বা বিজেপির নিশ্চিত ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারে, তবে অনেক আসনের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। সব মিলিয়ে এক বহুমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে বাংলা।
