বিজেপিকে রুখতে বামপন্থার পুনরুত্থান জরুরি! গণনার আগে তৃতীয় শক্তির জোরালো পূর্বাভাস অশোকের

ভোট গণনার মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী মন্তব্য করেছেন শিলিগুড়ির বর্ষীয়ান বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসতে না দেওয়া. রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক শক্তির আবির্ভাব অত্যন্ত প্রয়োজন এবং সেই ক্ষেত্রে সিপিআইএম (CPM) অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলেই তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন. দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার পুনরুত্থান বা পুনর্জাগরণ ঘটানোই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি.
১০-এর বেশি আসনের লক্ষ্য ও তৃতীয় শক্তির গুরুত্ব
আসন্ন ফলাফলের পূর্বাভাস দিতে গিয়ে অশোক ভট্টাচার্য সরাসরি আসনের পাটিগণিতও সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বামপন্থীরা এককভাবে ১০টির বেশি আসনে জয়লাভ করতে পারে বলে তিনি খবর পাচ্ছেন. পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কংগ্রেসও বেশ কিছু আসন পাবে বলে তাঁর অভিমত. এই সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে রাজ্যে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় শক্তি’ গড়ে উঠবে বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন. তাঁর মতে, এই জোট বা তৃতীয় শক্তি যদি পরিমাণে দুর্বলও হয়, তবুও রাজ্যের সুস্থ সংসদীয় রাজনীতির স্বার্থে এবং দ্বিমুখী মেরুকরণ রুখতে এর অস্তিত্ব বজায় থাকা ও শক্তিশালী হওয়া অত্যন্ত জরুরি.
রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের পূর্বাভাস
অশোক ভট্টাচার্যের এই বিশ্লেষণধর্মী বার্তা রাজ্যের চিরাচরিত দ্বিমুখী লড়াইয়ের সমীকরণকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। যদি সত্যিই বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফ জোট উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পায়, তবে সরকার গঠনে বা বিধানসভায় শক্তিশালী বিকল্প পক্ষ হিসেবে তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বামপন্থার এই সম্ভাব্য পুনর্জাগরণ মূলত শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের ভোটব্যাঙ্কেই থাবা বসাতে পারে, যা রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলকে নাটকীয়ভাবে বদলে দিতে সক্ষম। তাঁর এই বলিষ্ঠ দাবি একদিকে যেমন বাম কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে, তেমনই ফল ঘোষণার পর রাজ্যে একটি নতুন ও বিকল্প রাজনৈতিক মেরুকরণের পথ প্রশস্ত করতে পারে যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলার সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করবে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
