গণনায় কারচুপির অভিযোগে সরব তৃণমূল, বাংলায় কি তবে ফিরছে বিতর্কিত বিহার মডেল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। দুপুরের ট্রেন্ড অনুযায়ী অনেক আসনেই শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা পিছিয়ে থাকায় এবং গণনার গতি মন্থর হওয়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে বড়সড় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক শিবিরের দাবি, ২০২৫ সালের বিহার নির্বাচনের কায়দায় পশ্চিমবঙ্গকেও ‘বিহার মডেল’-এর পথে ঠেলে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও বিহার মডেল প্রসঙ্গ
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটগণনার গতি ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ১৩ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হওয়ায় শাসক দল দাবি করছে, এটি কাউন্টিং এজেন্টদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। উল্লেখ্য, ‘বিহার মডেল’ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয় যেখানে গণনা পদ্ধতি নিরাপদ ও নিখুঁত করার দোহাই দিয়ে গতি কমিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই মন্থর গতির সুযোগ নিয়ে পরাজয়ের মুখে থাকা দল কারচুপির মাধ্যমে ফল পরিবর্তনের চেষ্টা করে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, শতাধিক আসনের সঠিক ফলাফল কমিশন প্রকাশ করছে না।
প্রভাব ও কমিশনের অবস্থান
এই পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পড়তে শুরু করেছে। তৃণমূলের আশঙ্কা, ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ার ফলে এজেন্টরা হতোদ্যোম হয়ে পড়লে সেই সুযোগে বিজেপি কারচুপি করতে পারে। ফলে গণনার টেবিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আঁকড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট অভিসন্ধি নয়, বরং জটিল নিয়ম ও নির্ভুল ফল ঘোষণার স্বার্থেই পদ্ধতিগত সময় লাগছে। তবে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
