নবান্ন দখলে বিজেপির নীল নকশা, ক্ষমতায় এলে আমূল বদলে যাবে প্রশাসনিক কাঠামো! – এবেলা

নবান্ন দখলে বিজেপির নীল নকশা, ক্ষমতায় এলে আমূল বদলে যাবে প্রশাসনিক কাঠামো! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের রোডম্যাপ পেশ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উন্মোচিত এই ‘সংকল্প পত্র’ অনুযায়ী, ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এক স্বচ্ছ, গতিশীল এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাই দলটির প্রধান লক্ষ্য। এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে দুর্নীতি দমন, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা মেটানো এবং রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান ও শ্বেতপত্র

বিজেপির প্রস্তাবিত প্রশাসনিক সংস্কারের প্রথম ধাপ হলো গত দেড় দশকের শাসনের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে একটি বিশেষ ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ করা। প্রশাসনে শেকড় গেড়ে বসা ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং ‘কাট মানি’ সংস্কৃতি নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে কয়লা, বালি ও পাথর মাফিয়াদের দাপট রুখতে ক্ষমতা দখলের ১০০ দিনের মধ্যে একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতির তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা ও নিয়োগে স্বচ্ছতা

রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ মেটাতে বড়সড় ঘোষণা করেছে বিজেপি। সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পরিশোধ এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। প্রশাসনিক নিয়োগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর পাশাপাশি নারীদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পথে বাধা দূর করতে ‘লাইসেন্স রাজ’ বিলোপ করে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে।

জাতীয় নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধ

প্রশাসনিক সংস্কারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলার আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা। ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজেপি। এছাড়া, অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধানে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ নীতি অনুসরণের মাধ্যমে ২০০ দিনের মধ্যে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *