বিজয় মিছিলে কমিশনের কড়া শর্ত, অশান্তি রুখতে তৎপর প্রশাসন

রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা ঘিরে টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে। প্রাথমিক ট্রেন্ড সামনে আসতেই বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলোর উল্লাস শুরু হয়েছে। তবে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজয় মিছিলের ওপর এবার বিশেষ শর্তারোপ করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে আজ বড় ধরনের কোনো উদযাপন না করাই শ্রেয়।
অনুমতি ছাড়া বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিজয় মিছিলের ওপর সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও তা আয়োজনের ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি জয়ের পর মিছিল করতে চায়, তবে তাদের আগেভাগেই কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে। মূলত গণনার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ে অশান্তির আশঙ্কা এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিইও-র মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কঠোর বিধিনিষেধ
ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে রাজ্যজুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটার পরিধির মধ্যে ইতিপূর্বেই বিএনএস ১৬৩ (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে যান চলাচলের ওপরও বিভিন্ন বিধিনিষেধ বলবৎ করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়।
পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল। তবে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা কমিয়ে রাজ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।
