‘মন খারাপ করবেন না, ওয়েট-ওয়াচ অ্যান্ড সি’! কর্মীদের ধৈর্য ধরার জরুরি বার্তা মমতার

ভোটগণনার প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যজুড়ে বিজেপির দাপট এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পিছিয়ে পড়ার খবরে যখন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই দলের হাল ধরলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনাকেন্দ্রের পরিস্থিতি এবং কর্মীদের মনোবল অটুট রাখতে একটি জরুরি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এখনই মন খারাপ করার কোনো কারণ নেই; বরং শেষ রাউন্ড পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও ধৈর্য ধরার পরামর্শ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, গণনার শুরুতে বিজেপির এগিয়ে থাকা আসলে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরের শক্ত ঘাঁটিগুলোর গণনা আগে দেখিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় ইভিএমে গরমিল এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বিজেপির কথামতো কিছু জায়গায় গণনা থামিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।” কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “গণনার শেষ না হওয়া পর্যন্ত টেবিল ছাড়া চলবে না। ওয়েট, ওয়াচ অ্যান্ড সি—সূর্যাস্তের পরেই আসল ফলাফল সামনে আসবে।”
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার মাঝপথে দলনেত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপি ১৮০-র বেশি আসনে এগিয়ে থাকায় তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে যে স্থবিরতা আসার আশঙ্কা ছিল, তা কাটাতে এই “বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই” করার আহ্বান টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মাত্র কয়েক রাউন্ডের গণনা শেষ হয়েছে, এখনো অনেক রাউন্ড বাকি। এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো কাউন্টিং এজেন্টরা যাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুথে থেকে কারচুপি রুখতে পারেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করতে সক্রিয় থাকেন। শেষ পর্যন্ত এই প্রতিরোধ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় কোনো পরিবর্তন আনে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
