ক্ষমতায় এলেই ৪৫ দিনে মেটানো হবে ডিএ! নবান্ন দখলে বিজেপির তুরুপের তাস ‘প্রশাসনিক সার্জারি’

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রশাসনিক রোডম্যাপ পেশ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উন্মোচিত ‘সংকল্প পত্র’-এ তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকালকে সরিয়ে এক স্বচ্ছ ও গতিশীল প্রশাসন গড়ার একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানো।
দুর্নীতি দমন ও নিয়োগে স্বচ্ছতা
বিজেপির এই প্রশাসনিক সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গত ১৫ বছরের দুর্নীতির খতিয়ান সম্বলিত একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং ‘কাট মানি’ সংস্কৃতি নির্মূল করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কয়লা, বালি ও পাথর মাফিয়াদের দাপট বন্ধ করতে ১০০ দিনের সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক হিংসা ও দুর্নীতির তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির অধীনে বিশেষ কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রশাসনে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।
আর্থিক পাওনা ও নিরাপত্তা সংস্কার
রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের মন জিততে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের কথা ভাবছে বিজেপি। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতায় আসার ৬ মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করা এবং ২০০ দিনের মধ্যে সরকারি জমি অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করার মতো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রভাব
বিজেপির এই প্রস্তাবিত সংস্কারগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যকারিতা যেমন বাড়বে, তেমনি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আর্থিক যোগান নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে ওঠা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণের এই বার্তা দিয়ে বিজেপি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে, যার চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারিত হবে ব্যালট বাক্সে।
