বাংলায় ফুটল পদ্ম, শুরু হল মসনদের লড়াই: শুভেন্দু না কি শমীক, কার মাথায় উঠবে রাজতিলক?

বাংলায় ফুটল পদ্ম, শুরু হল মসনদের লড়াই: শুভেন্দু না কি শমীক, কার মাথায় উঠবে রাজতিলক?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন মুহূর্ত তৈরি করে প্রথমবারের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭টি আসনে এগিয়ে থেকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে বিজেপি। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই জয়ের পর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়লেও, রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে— কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার ‘ভূমিপুত্র’ তত্ত্ব সামনে এনেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দিল্লি শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা রাখে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে হাইভোল্টেজ লড়াই।

মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী পদের তালিকায় বর্তমানে সবথেকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে আসছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর থেকেই তিনি রাজ্য বিজেপির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক বছরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং নিচুতলার কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক নাড়ি-নক্ষত্র চেনা থাকার কারণে শুভেন্দুই এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।

বিবেচনায় আরও একঝাঁক হেভিওয়েট মুখ

শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাম নিয়ে চর্চা চলছে। আরএসএস-ঘনিষ্ঠ এবং দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। ২০১৪ সালে বিজেপির প্রথম বিধায়ক হিসেবে জয়ী হওয়া শমীকবাবু দলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক। অন্যদিকে, বাংলায় বিজেপির উত্থানের কারিগর তথা জনপ্রিয় জননেতা দিলীপ ঘোষ খড়গপুর সদরে জয়ের পথে থাকায় তাঁকেও এড়িয়ে যাওয়া আসাম্ভব। উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সুকান্ত মজুমদার কিংবা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মুখ হিসেবে স্বপন দাশগুপ্তর নাম নিয়েও জল্পনা জারি রয়েছে।

জয়ের প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বিজেপির এই জয় বাংলার রাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়ে এখন সম্পূর্ণ নতুন এক প্রশাসনিক কাঠামোর অপেক্ষা করছে রাজ্যবাসী। তবে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা এবং অন্যদিকে রাজ্যের মানুষের আবেগ— এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়ে কাকে শেষ পর্যন্ত নবান্নের চাবি তুলে দেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *