স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার হুঙ্কার, জয়ের পর লক্ষ্য স্থির করলেন ‘ডক্টর দেবনাথের মা’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে অন্যতম আলোচিত নাম জলহাটি কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা আরজি কর নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। নির্বাচনে জয়ের পরেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর আগামীর লড়াই কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং তাঁর মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রত্না দেবনাথ
বিপুল ভোটে জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ সরাসরি স্বাস্থ্য দফতরের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “আমার মেয়ে যে দুর্নীতির শিকার হয়ে খুন হয়েছে, সেই স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতির শিকড় ঠিক কতটা গভীরে, তা খুঁজে বের করব।” জলহাটির দীর্ঘদিনের ‘থ্রেট কালচার’ এবং ভয়ের পরিবেশ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। নিজের জয়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করে তিনি বলেন, বাংলার শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থার অবনতির বিরুদ্ধে তাঁর এই লড়াই জারি থাকবে।
বিচারের লক্ষ্যে এক অবিচল জননী
সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রথম দিকে অনীহা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত মেয়ের বিচারের দাবিকেই রাজনীতির মঞ্চে হাতিয়ার করেছিলেন রত্না দেবনাথ। জলহাটির বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ এবং বাম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তকে পরাজিত করে তিনি বিধানসভার টিকিট নিশ্চিত করেছেন। জয়ী হয়েও তিনি নিজেকে কোনো বিশেষ পরিচয় নয়, বরং ‘ডক্টর দেবনাথের মা’ হিসেবেই পরিচিত করতে চান। সেই সঙ্গে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় প্রসঙ্গেও নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, রত্না দেবনাথের এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। একজন শোকার্ত মা থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠার এই যাত্রা স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বচ্ছতা রক্ষায় সরকারকে চাপে রাখবে। বিশেষ করে আরজি কর কাণ্ডের পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, বিধানসভার ভেতরে এবার তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবেন তিনি। তাঁর এই জয় একদিকে যেমন জলহাটির রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিল, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিকে আরও জোরালো করল।
