পরিবর্তনের ঝড়ে তৃণমূলের পতন, মমতা ও অভিষেককে জেলে দেখার হুঙ্কার জলহাটির রত্না দেবনাথের

পরিবর্তনের ঝড়ে তৃণমূলের পতন, মমতা ও অভিষেককে জেলে দেখার হুঙ্কার পানিহাটির রত্না দেবনাথের

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পটপরিবর্তন ঘটে গেল ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলায় বইতে শুরু করেছে গেরুয়া হাওয়া। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর এই পালাবদলের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে উঠে এসেছেন আরজি করের নির্যাতিতার মা তথা জলহাটি কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে ৩০ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জয়ের লক্ষ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই

নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট হতেই নিজের জয়ের কৃতিত্ব জলহাটির মানুষ এবং বিজেপি কর্মীদের উৎসর্গ করেছেন রত্না দেবনাথ। জয়ের পর সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপোকে জেলে দেখতে চাই।” বিধায়ক হিসেবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে স্বাস্থ্য দপ্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা। উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য দপ্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, রত্না দেবনাথ সরাসরি সেই বিষয়টিকে বিধানসভায় তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর মেয়ের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি, বরং সারা বাংলায় ‘পদ্ম’ ফুটিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আগামীর প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরজি কর কাণ্ড এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এই নির্বাচনে শাসকদলের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রত্না দেবনাথের জয়কে অনেকেই ‘প্রতিবাদের জয়’ হিসেবে দেখছেন। জলহাটিকে ‘ঘোষ পরিবার’ ও ‘থ্রেট কালচার’ থেকে মুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, ভোটাররা তাতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। নবনির্বাচিত এই বিজেপি বিধায়কের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং স্বাস্থ্য ও পুলিশ দপ্তরের দায়িত্বে থাকায় দুর্নীতির দায়ভার এড়াতে পারেন না। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যার কেন্দ্রস্থলে থাকতে পারেন রত্না দেবনাথের মতো লড়াকু প্রতিনিধিরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *