বঙ্গে ঐতিহাসিক গেরুয়া ঝড়, ৯ জেলায় শূন্য হাতে ফিরল তৃণমূল!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে দীর্ঘদিনের সমীকরণ বদলে দিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিজেপি। অন্যদিকে, গত এক দশকের আধিপত্য হারিয়ে কার্যত বিপর্যয়ের মুখে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের ৯টি জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল একটি আসনও দখল করতে পারেনি, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গে ভরাডুবি, ভাঙল শাসকদলের চেনা দুর্গ
এবারের নির্বাচনে জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গ থেকে কার্যত মুছে গিয়েছে তৃণমূলের অস্তিত্ব। জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত জেলাগুলোতে সবকটি আসন পকেটে পুরেছে গেরুয়া শিবির। একই ছবি ধরা পড়েছে উত্তরবঙ্গেও; জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা এখন সম্পূর্ণ তৃণমূল-শূন্য। এমনকি, খোদ কলকাতায় গত তিনটি নির্বাচনে অপ্রতিরোধ্য থাকলেও এবার শহরের অর্ধেকের বেশি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অধিকারী গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরেও ১৬-০ ফলাফলে তৃণমূলকে ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে বিজেপি।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক মেরুকরণ ও পরাজয়ের নেপথ্যে
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উচ্চবর্ণের ভোট থেকে শুরু করে মতুয়া, নমঃশূদ্র এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের বড় অংশের সমর্থন সরাসরি বিজেপির পক্ষে গিয়েছে। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়ার পাশাপাশি মহিলা ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন হারানোই শাসকদলের এই ভরাডুবির প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া নদিয়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতেও তৃণমূলের দাপট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও নিজেদের একক আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে জোড়াফুল শিবির।
এই ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ৯টি জেলায় শূন্য হয়ে যাওয়া এবং নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতে পরাজয় তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই প্রকট করে তুলল। অন্যদিকে, সর্বস্তরের মানুষের এই বিপুল জনসমর্থন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ নিশ্চিত করল।
