‘এই জয় অভয়ার জয়!’ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের পতন ঘটতেই ময়না থেকে গর্জে উঠলেন অশোক দিন্দা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/05/ashoke-dinda-2026-05-05-13-04-24.jpg)
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় সূচিত হলো। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঝোড়ো জয়ের আবহে বিশেষ নজর কেড়েছেন ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা। টানা দ্বিতীয়বার বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, ক্রিকেট পিচের মতো রাজনীতির ময়দানেও তাঁর ইয়র্কার সমান কার্যকর।
প্রতিদ্বন্দ্বীকে বড় ব্যবধানে পরাস্ত
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কেন্দ্রে এবারও বিজেপির বাজি ছিলেন দিন্দা। দলীয় নেতৃত্বের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চন্দন মণ্ডলকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১,২৬০ ভোট, সেখানে এবারের ব্যবধান তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, দিন্দার এই জয় কেবল ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং জেলাজুড়ে বিজেপির শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানের প্রতিফলন।
‘অভয়ার জয়’ এবং আবেগের বার্তা
জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করেন অশোক দিন্দা। সেখানে তিনি এই জয়কে সাধারণ মানুষের জয় হিসেবে বর্ণনা করার পাশাপাশি একে ‘অভয়ার জয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই ফলাফল বাংলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক গ্লানি মুছে ফেলার ইঙ্গিত। দিন্দার এই মন্তব্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়, যা সাধারণ মানুষের আবেগকে স্পর্শ করেছে।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে মন্ত্রিসভার পথে
২০০৯ সালে ভারতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই স্পিডস্টার ১৩টি ওয়ানডে এবং ৯টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর খুব অল্প সময়েই তিনি রাজনীতির ময়দানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলে অভিজ্ঞ এই ক্রীড়াবিদকেই রাজ্যের পরবর্তী ক্রীড়া মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ময়নার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দিন্দা জানিয়েছেন, আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে তিনি দায়বদ্ধ।
