শাহজাহানের গড়ে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ওসি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ গুলিবিদ্ধ ৫!

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ন্যাজাট। মঙ্গলবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলা সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এক সময়ের দাপুটে নেতা শেখ শাহজাহানের এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজবাড়িতে এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তপ্ত রাজবাড়ি এবং অতর্কিত হামলা
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৪ জুন ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। মঙ্গলবার রাতে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নেয় এবং দু’পক্ষই ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলি চালাতে শুরু করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে পৌঁছান ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েত এবং একদল পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। অভিযোগ, সংঘর্ষ থামাতে যাওয়ার সময় পুলিশ ও বাহিনীর ওপর অতর্কিত গুলি চালানো হয়। এতে ওসির হাতে গুলি লাগে এবং আরও চারজন গুরুতর জখম হন।
আহতদের চিকিৎসা ও বর্তমান পরিস্থিতি
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রাজবাড়ি ফাঁড়ির কর্মী ভাস্বত গোস্বামী, একজন মহিলা পুলিশ কনস্টেবল এবং দুজন সিআরপিএফ জওয়ান রয়েছেন। ঘটনার পরপরই তাঁদের দ্রুত মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের রাতেই কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার কারণ ও এলাকায় চরম আতঙ্ক
রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং নির্বাচনী ফলাফলের পরবর্তী প্রতিশোধমূলক মনোভাব থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। শেখ শাহজাহানের অনুপস্থিতিতেও তাঁর গড়ে এই ধরণের সংঘাত প্রমাণের দিচ্ছে যে, এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনও কতটা গভীরে। বুধবার ভোর থেকে রাজবাড়ি এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী রুট মার্চ করছে। রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে থাকা গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করছে। এই ঘটনার পর নতুন করে বড় কোনো অশান্তি এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
