বাংলার বুকে এবার ‘বুলডোজার রাজ’! নিউ মার্কেটে তৃণমূল কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/06/kolkata-2026-05-06-08-54-17.jpg)
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কলকাতার রাজনৈতিক অঙ্গন। ঐতিহাসিক নিউ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট ও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির ‘পরিবর্তন’ স্লোগানকে তীব্র কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, বিজেপির এই পরিবর্তন আসলে ধ্বংসাত্মক ‘বুলডোজার রাজনীতি’।
মঙ্গলবার রাতে তৃণমূলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হ্যান্ডেল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, উচ্চ শব্দে গান ও উল্লাসের মাঝে একটি বুলডোজার স্থানীয় দোকানপাট ও তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, জয়ী হওয়ার পর বিজেপি কর্মীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তিতে আঘাত হানছে।
তৃণমূলের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক সংঘাত
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপি নেতৃত্ব তাদের কর্মীদের প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালানোর পরোক্ষ লাইসেন্স দিয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, “বাঙালিরা পরিবর্তন উপভোগ করছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আজ দোকানপাটে হামলা হলেও ভবিষ্যতে এটি রাজনৈতিক বিরোধী এবং বাংলার মনীষীদের মূর্তির ওপরও আছড়ে পড়তে পারে।
ঘটনার প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি
এই বুলডোজার তাণ্ডবের ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে। তৃণমূল এটিকে ‘রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ গ্রহণের আগেই এ ধরনের সংঘর্ষ ও উসকানিমূলক স্লোগান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বিজেপি এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সাফাই দেয়নি।
