চন্দ্রনাথ রথ খুনে সিবিআই তদন্তের দাবি তৃণমূলের! বিজেপি-র দিকে আঙুল তুলে পাল্টাচাল ঘাসফুল শিবিরের

চন্দ্রনাথ রথ খুনে সিবিআই তদন্তের দাবি তৃণমূলের! বিজেপি-র দিকে আঙুল তুলে পাল্টাচাল ঘাসফুল শিবিরের

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তপ্ত রাজ্য রাজনীতিতে এবার নতুন মাত্রা যোগ করল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ড। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথবাবুর নির্মম খুনের ঘটনার পর যখন উত্তেজিত বিজেপি সমর্থকরা তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন, ঠিক তখনই পাল্টা রণকৌশল নিল ঘাসফুল শিবির। এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ বিচার চেয়ে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ ও সিবিআই দাবি

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে যে, গত তিন দিনে বিজেপির আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে তাদেরও তিনজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তৃণমূলের বক্তব্য, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের হিংসা মেনে নেওয়া যায় না। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানাচ্ছি। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো জায়গা নেই।”

পুরানো কৌশলে ফিরছে জোড়াফুল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই সিবিআই তদন্তের দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাম আমলে যেকোনো বড় ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলতেন। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যে বিরোধীরা বারবার সিবিআই তদন্ত চাইলেও তৃণমূল নেতৃত্ব তার বিরোধিতা করে এসেছে। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের আবহে এবং নিজেদের ওপর দায় আসার উপক্রম হতেই ফের সেই কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপরেই ভরসা দেখানোর কৌশল নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের জনবহুল রাস্তায় চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি ঘিরে ধরে দুষ্কৃতীরা পরপর গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শুভেন্দু অধিকারীর এই দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীর। গুরুতর আহত অবস্থায় চালক বুদ্ধদেব বেরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যমগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। বিজেপির দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা। অন্যদিকে, তৃণমূল এই দায় অস্বীকার করে বিষয়টিকে সিবিআই-এর হাতে দেওয়ার দাবি তুলে কার্যত বল বিজেপির কোর্টেই ঠেলে দিল।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *