‘সব ফাইল খোলাব, সরকার গঠন হলে গুন্ডা দমন হবে’ মমতাকে হারানোর পর হুঙ্কার শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামের পর এবার খাস তালুক ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলেই পুরনো সব ‘ফাইল’ খোলা হবে এবং গুন্ডা দমনে নেওয়া হবে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ।
ভবানীপুরে জয়ের সমীকরণ এবং ভোটারদের কৃতজ্ঞতা
শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই জয়ের কৃতিত্ব ভোটারদের দিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর পর এই কেন্দ্রের বহু মানুষ এবার নিজের ভোট নিজে দিতে পেরেছেন। তাঁর কথায়, “বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের এই মহোৎসবে হাউসিংয়ের অনেক ভোটার আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা দীর্ঘ সময় পর এবার নির্ভয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।” অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ প্রশাসনকেও বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
মমতার প্রাসঙ্গিকতা এবং ইস্তফা বিতর্ক
নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার অনড় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি সাফ জানান যে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন রাজ্যপাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শুভেন্দুর মতে, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর প্রাসঙ্গিক নন।” বাংলার মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।
শান্তি বজায় রাখার বার্তা ও গুন্ডাদমনের হুঁশিয়ারি
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগের আবহে শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ এবং ২০২৩ সালের পরিস্থিতির তুলনা টেনে আনেন। তিনি জানান, আগের তুলনায় এবার অপ্রীতিকর ঘটনা অনেক কম। দলীয় কর্মীদের আইন হাতে না তুলে নেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীদের ‘পাপী’দের দিন শেষ হতে চলেছে। সরকার গঠন হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজ্যে ‘মহাজঙ্গলরাজ’ শেষ করে গুন্ডা দমনের মাধ্যমে শান্তি ফেরানোই তাঁদের অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।
