‘যেতে দিন, এঁরা কোনো না কোনো পাপ করেছে’, দলত্যাগীদের নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

‘যেতে দিন, এঁরা কোনো না কোনো পাপ করেছে’, দলত্যাগীদের নিয়ে বিস্ফোরক মমতা

কালীঘাটে আয়োজিত তৃণমূলের নবনির্বাচিত পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠকে কার্যত ‘পরিষ্কার’ রাজনীতির ইঙ্গিত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর যখন দলের একাংশ নেতার মধ্যে ‘বেসুরো’ হওয়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, তখন তাঁদের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করে মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যাঁরা এই সংকটের সময়ে দল ছাড়তে চাইছেন, তাঁদের বাধা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

ভয় এবং ‘পাপ’-এর তত্ত্ব

এদিনের বৈঠকে দলত্যাগীদের মানসিকতা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী অত্যন্ত কড়া শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “এখন যাঁরা দল ছেড়ে যেতে চায়, তাঁদের যেতে দিন। বুঝতে হবে, এতদিন এঁরা কোনও না কোনও পাপ বা অন্যায় করেছে। এখন তদন্ত বা অন্য কোনও ভয়ের কারণে দল ছাড়তে চাইছে।” মমতার এই মন্তব্যের লক্ষ্য মূলত সেই সব নেতা, যাঁরা সরকার পরিবর্তনের পর আইনি ব্যবস্থা বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে রাজনৈতিক শিবির বদল করার কথা ভাবছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

শৃঙ্খলাভঙ্গে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল দলত্যাগীদের নিয়েই কথা বলেননি, বরং দলের ভেতরে থেকে যাঁরা নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন বা ‘দলবিরোধী’ মন্তব্য করছেন, তাঁদেরও এক হাত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, দলবিরোধী কাজের জন্য নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি গড়া হয়েছে এবং যে কোনও ধরনের অবাধ্যতা বা বিশ্বাসঘাতকতা বরদাস্ত করা হবে না। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তিনি পিছপা হবেন না বলেও এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সংগঠন সংহতির নতুন কৌশল

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয়ের পর দল যখন টালমাটাল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে সংগঠনকে ছেঁকে নিতে চাইছেন। যারা সত্যিই দলের আদর্শে বিশ্বাসী, তাঁদের নিয়েই তিনি আগামী দিনের লড়াই লড়তে চান। ভয় দেখিয়ে বা স্বার্থের টানে যাঁরা দলে ছিলেন, তাঁদের বেরিয়ে যেতে বলে তিনি আসলে দলের ভেতরে শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়াই শুরু করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *