দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ, ওড়িশার আপত্তিতে বড়সড় বদলের পথে প্রশাসন

দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে সরছে ‘ধাম’ শব্দ, ওড়িশার আপত্তিতে বড়সড় বদলের পথে প্রশাসন

দিঘার সমুদ্র সৈকতে নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দানা বাঁধা দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। মন্দিরের নামের সঙ্গে যুক্ত ‘ধাম’ শব্দটি নিয়ে ওড়িশার রাজপরিবার এবং রাজনৈতিক মহলের আপত্তির মুখে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মূলত পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গরিমা ও শাস্ত্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ধর্মীয় ভাবাবেগ ও শাস্ত্রীয় বিতর্ক

পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত সমাজ এবং প্রাক্তন রাজপরিবারের প্রধান গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব শুরু থেকেই দিঘার মন্দিরের নামকরণে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাঁদের মতে, হিন্দু ধর্মে ‘চারধাম’ বলতে নির্দিষ্ট কিছু পবিত্র স্থানকে বোঝানো হয়, যার অন্যতম ওড়িশার পুরী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জগন্নাথ মন্দির নির্মিত হতে পারলেও ‘জগন্নাথ ধাম’ কেবল একটিই হতে পারে। অন্য কোনো মন্দিরের ক্ষেত্রে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করলে পুরীর প্রাচীন ঐতিহ্য ও ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে বলে ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ইতিপূর্বে বাংলার তৎকালীন সরকারকে চিঠি লিখে এই নাম পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নতুন করে গতি পেয়েছে। ওড়িশা বিজেপির সহ-সভাপতি গোলক মহাপাত্র এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির প্রেক্ষিতে এবং সেবায়েতদের দাবি মেনে মন্দিরের নামের শেষ থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন নামকরণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল দিঘার এই সুদৃশ্য মন্দিরের উদ্বোধন করা হয়েছিল। উদ্বোধনের পর থেকেই এর নামকরণ নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। তবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পরিচিতিতে এই পরিবর্তন কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে আলোচনা চললেও ধর্মীয় মাহাত্ম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন শাস্ত্রজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *