অভাবের সংসার থেকে রাজনীতির ময়দান, হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে ইতিহাস কলিতার – এবেলা

অভাবের সংসার থেকে রাজনীতির ময়দান, হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে ইতিহাস কলিতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় তৈরি করলেন কলিতা মাজি। অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালানো এক সাধারণ নারী এখন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক। গ্ল্যামার আর আতিশয্যের রাজনীতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কলিতার এই জয় সাধারণ মানুষের লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হলেও ভেঙে পড়েননি তিনি। দলের আস্থা ও নিজের মনোবলকে পুঁজি করে দ্বিতীয় চেষ্টাতেই বাজিমাত করলেন এই লড়াকু নারী।

হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়

আউশগ্রামের লড়াই কলিতার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের হেভিওয়েট নেতা শ্যামাপ্রসন্ন লোহার। শাসকদলের শক্ত সংগঠন এবং পেশিশক্তির মোকাবিলা করে কলিতা মাজি ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ জন মানুষের সমর্থন আদায় করেছেন। শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেন তিনি। স্বামী ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলেকে নিয়ে অভাবের সংসার চালানো কলিতা প্রমাণ করে দিলেন যে, জনমতের কাছে অর্থবল ও আভিজাত্য তুচ্ছ।

জনসেবার সংকল্প ও আগামীর প্রভাব

জয়ের পর কোনো আতিশয্য নয়, বরং মাটির কাছাকাছি থাকাই লক্ষ্য আউশগ্রামের এই ‘ভূমিপুত্রী’-র। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, গরিব ঘরের বধূ হিসেবে সাধারণ মানুষের কষ্ট তিনি অনুভব করেন। তৃণমূলের বিধায়কদের মতো বিলাসবহুল জীবন নয়, বরং সাধারণ মানুষের সেবা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মুখ উজ্জ্বল করাই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য। একসময়ের জঙ্গলমহল হিসেবে পরিচিত গুসকরা পুরসভার মাঝপুকুর পাড়ায় এখন উৎসবের মেজাজ। একজন পরিচারিকার এই উত্তরণ রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং ভবিষ্যতে প্রান্তিক মানুষের রাজনীতিতে আসার পথ আরও প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *