মহারাষ্ট্রে এবার ‘বাংলা মডেল’ অনুসরণ করে ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের পথে বিজেপি – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/28/voter-list-2025-10-28-09-57-55.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সে রাজ্যের রাজনীতি। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাম্প্রতিক রণকৌশল নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গে গত নির্বাচনে ব্যবহৃত কৌশলের আদলে মহারাষ্ট্রেও প্রায় ৫০ লক্ষ ‘ভুয়ো’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে গেরুয়া শিবির। মুম্বইয়ের দাদরে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় দলীয় নেতাকর্মীদের এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুপ্রবেশের যুক্তি ও বিজেপির রণকৌশল
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত কয়েক বছরে মহারাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। দলের নেতা কিরীট সোমাইয়া পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মুম্বইয়ের মুমব্রার মতো এলাকায় ভোটার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা অনুপ্রবেশের ইঙ্গিতবাহী। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি বুথে বিশেষ কর্মী মোতায়েন করে ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গের ন্যায় একই পথে হেঁটে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়াই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিরোধীদের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিজেপির এই অতি-সক্রিয়তাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কারচুপির আশঙ্কা করছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক আবু আজমি দাবি করেছেন, নথিপত্রে সামান্য ভুল বা অনুবাদের ত্রুটিকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘুদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের এই নিবিড় প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। যদি বড় মাত্রায় নাম বাদ পড়ে, তবে তা মহারাষ্ট্রের নির্বাচনি ফলাফলে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
