ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ আদেশ অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত, স্বস্তিতে ভারতসহ ৬০ দেশ

ট্রাম্পের নতুন ট্যারিফ আদেশ অবৈধ ঘোষণা করল মার্কিন আদালত, স্বস্তিতে ভারতসহ ৬০ দেশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক ট্যারিফ বা আমদানি শুল্কের ওপর বড় ধরনের ধাক্কা দিল আমেরিকার একটি ফেডারেল আদালত। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ওপর ১৫০ দিনের জন্য এই শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘অকার্যকর’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে ভারতসহ প্রায় ৬০টি দেশ বড় ধরনের স্বস্তি পেল।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রেক্ষাপট

কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড তার রায়ে জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের বিধানগুলো কেবল তখনই কার্যকর করা সম্ভব যখন দেশে অর্থপ্রদানের ভারসাম্য বা ‘ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট’ সংকট তৈরি হয়। বিচারপতি মার্ক এ. বার্নেট এবং বিচারপতি ক্লেয়ার আর. কেলি তাঁদের পর্যবেক্ষণে বলেন, আইনের এমন ব্যাপক ও মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অসীম ক্ষমতা দেওয়া যায় না। কারণ, এই ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছিল যে, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক বসানোর অধিকার দেয় না।

বাণিজ্যিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এই রায়ের ফলে বর্তমান ট্যারিফ স্থগিত হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই আদেশটি সরাসরি তিনটি আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত এক বছরে নানা কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর দফায় দফায় শুল্ক বাড়ানো হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে শুল্কের হার কখনও ২৫ শতাংশ আবার কখনও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল। আদালতের এই হস্তক্ষেপ বিশ্ববাজারে মার্কিন বাণিজ্য নীতির একতরফা আধিপত্যে কিছুটা লাগাম টানবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এক ঝলকে

  • মার্কিন ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক ট্যারিফ আদেশকে অবৈধ বলে বাতিল করেছে।
  • আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে শুল্ক আরোপের অসীম ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন না।
  • ভারতসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ এই রায়ের ফলে বাড়তি বাণিজ্যিক শুল্কের চাপ থেকে মুক্তি পেল।
  • মূলত ‘ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট’ সংকটের যুক্তি দেখিয়ে এই শুল্ক বসানো হয়েছিল যা আদালত নাকচ করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *