পাকিস্তানের ঘুম কাড়তে আসছে ভারতের ‘TARA’! ১০০ কিমি দূর থেকেই ধ্বংস হবে শত্রুঘাঁটি

পাকিস্তানের ঘুম কাড়তে আসছে ভারতের ‘TARA’! ১০০ কিমি দূর থেকেই ধ্বংস হবে শত্রুঘাঁটি

ভারতকে রুখতে ৫০০ কোটি টাকার যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান, ঠিক তখনই ভারতের হাতে এল এমন এক মারণাস্ত্র যা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) সফলভাবে পরীক্ষা করেছে তাদের নতুন প্রযুক্তির গ্লাইড ওয়েপন সিস্টেম ‘TARA’ (Tactical Advanced Range Augmentation)। এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, এটি সাধারণ ও পুরনো আমলের বোমাকেও নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম ‘স্মার্ট বোমায়’ রূপান্তর করতে পারে।

আকাশপথের নতুন আতঙ্ক ‘তারা’

ওড়িশা উপকূলে সুখোই-৩০ ফাইটার জেট থেকে এই সিস্টেমটির সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, ৪৫০ কেজি ওজনের একটি সাধারণ বোমার গায়ে এই কিটটি বসিয়ে দেওয়ার পর তা কোনো ইঞ্জিন ছাড়াই ডানা মেলে ১০০ কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে এখন আর শত্রুপক্ষের আকাশসীমার ভেতরে ঢুকে ঝুঁকি নিতে হবে না। সীমান্তের অনেক দূর থেকেই নিখুঁত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানো সম্ভব হবে।

কেন কাঁপছে ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের প্রধান মাথাব্যথার কারণ হলো লাহোরসহ তাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ২০-৩০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। ‘তারা’ সিস্টেমের পাল্লা ১০০ কিলোমিটার হওয়ায় ভারতের কোনো পাইলটকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওপারে যেতে হবে না। এটি জিপিএস ও স্যাটেলাইট নেভিগেশনের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু চিনে নিজেই পৌঁছে যাবে। এছাড়া রাশিয়ার তৈরি যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে দেশীয় তেজস—সব ধরণের ফাইটার জেটে এটি সহজেই ব্যবহার করা যাবে।

কম খরচে ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা

আধুনিক যুদ্ধে আকাশছোঁয়া দামের মিসাইলের চেয়ে কম খরচের ‘গাইডেন্স কিট’ অনেক বেশি কার্যকর। আমেরিকার ড্রোন বা ইরানের সস্তা প্রযুক্তির সাফল্যের পর ভারতও সেই পথেই হাঁটছে। ‘তারা’ একদিকে যেমন সাশ্রয়ী, অন্যদিকে এর মডিউলার ডিজাইনের কারণে যেকোনো ওজনের বোমার সঙ্গে এটি জুড়ে দেওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে ভারত এখন সেই হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখালো, যাদের নিজস্ব ‘গ্লাইড ওয়েপন কিট’ প্রযুক্তি রয়েছে।

এক ঝলকে

  • সফল পরীক্ষা: ওড়িশা উপকূলে সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে সফলভাবে ‘TARA’ সিস্টেমের পরীক্ষা সম্পন্ন।
  • ক্ষমতা: সাধারণ বোমাকেও ১০০ কিলোমিটার পাল্লার নিখুঁত স্মার্ট বোমায় রূপান্তর করতে পারে।
  • প্রযুক্তি: ইঞ্জিন ছাড়াই বাতাসে ভেসে (গ্লাইড করে) লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
  • প্রভাব: পাইলট ও যুদ্ধবিমানকে শত্রুর সীমানায় না পাঠিয়েই দূর থেকে ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *