চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশে তল্লাশি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশে তল্লাশি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সচিব চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার বড় ধরনের মোড় নিল। গত বুধবার মধ্যমগ্রামে ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনার তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি বিশেষ দল উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ এবং সম্ভল জেলায় পৌঁছেছে। সন্দেহভাজন কিছু মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সেখানে দু’জন যুবককে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিম কার্ডগুলোর সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের যোগসূত্র রয়েছে।

পেশাদার শুটার ও ডিজিটাল ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যেভাবে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তাতে কোনো পেশাদার বা ভাড়াটে খুনি জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী স্থানীয় কেউ হলেও ঘাতকরা ভিনরাজ্যের হতে পারে। এছাড়া গোয়েন্দারা কিছু ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়েছেন যা থেকে জানা গেছে, খুনিরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল। এই গ্রুপের মাধ্যমেই হামলার পরিকল্পনা ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় মোটরবাইক ও রহস্যময় গাড়ির খোঁজ

তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে রেল গেট এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দ্বিতীয় মোটরবাইকটি উদ্ধার করেছে। এর আগে কলকাতা বিমানবন্দর এলাকা থেকে আরও একটি বাইক উদ্ধার হয়েছিল, যার নম্বর প্লেটটি ছিল ভুয়া। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া এই দ্বিতীয় বাইকের ইঞ্জিন নম্বর ও অন্যান্য নথি যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি, শিলিগুড়ির এক গাড়ি মালিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি লাল রঙের চারচাকা গাড়ির সন্ধান চলছে। জানা গেছে, গাড়িটি বিক্রির বিজ্ঞাপনের সূত্রে উত্তরপ্রদেশের এক ক্রেতা যোগাযোগ করেছিলেন এবং সেই গাড়িটিতেই সাত-আটজন আরোহী ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • চন্দ্রনাথ রথ খুনের কিনারা করতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তদন্তকারী দল উত্তরপ্রদেশের সম্ভল ও বদায়ুঁতে হানা দিয়েছে।
  • হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দ্বিতীয় মোটরবাইকটি বারাসাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন লাল গাড়ির খোঁজ চলছে।
  • তদন্তে ডিজিটাল সংযোগ বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে খুনের নীল নকশা তৈরির প্রমাণ মিলেছে।
  • পেশাদার ‘সুপারি কিলার’ নিয়োগের আশঙ্কায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সহায়তায় সিম কার্ড ও টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *