বঙ্গোপসাগরে ভারতের পরমাণু মিসাইল উৎক্ষেপণ, আকাশজুড়ে রহস্যময় আলো দেখল বাংলাদেশ!

গত ৮ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার আকাশে এক রহস্যময় আলোর ছটা দেখা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, এটি ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) কর্তৃক উড়িষ্যা উপকূল থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় পরমাণু সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম (ICBM)। বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি অতিক্রম করার সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই পরীক্ষা নিয়ে সরাসরি কোনো বিবৃতি না দিলেও বঙ্গোপসাগরে আগে থেকেই আকাশসীমা সংক্রান্ত সতর্কতা বা ‘নোটাম’ জারি করা ছিল।
গোপন মহড়া ও শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি
প্রতিরক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ৬ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমানায় বিধিনিষেধ আরোপ করে এই গোপন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল। ৮ মে সন্ধ্যায় উৎক্ষেপণের পর যখন মিসাইলটি মহাকাশের দিকে অগ্রসর হয়, তখন এর থেকে নির্গত আলো বাংলাদেশের আকাশে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী ছিল, যার অসংখ্য ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই মিসাইলটি বহুল আলোচিত ‘অগ্নি-৬’ কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে এটি যে উচ্চ প্রযুক্তির আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ছিল তা এক প্রকার নিশ্চিত। ভারতের এই পদক্ষেপ মূলত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জাহির করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সমীকরণে ভারতের নতুন উচ্চতা
আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের এই সফল পরীক্ষা ভারতকে বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি শক্তিধর দেশের সারিতে নিয়ে আসবে। বর্তমানে কেবল আমেরিকা, রাশিয়া, চিন এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের কাছে ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম প্রযুক্তি রয়েছে। ভারতের এই সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত এখন দেশটির সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র সীমানার মধ্যে চলে আসবে। ডিআরডিও প্রধানের পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী, এই কারিগরি সাফল্য দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা বর্মকে আরও সুসংহত করবে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।
