তামিলনাড়ুতে শুরু হলো থালাপতি যুগ, চেন্নাইয়ে শপথ নিলেন বিজয়, উপস্থিত রাহুল গান্ধী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল তামিলনাড়ু। রবিবারের ঝলমলে সকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ‘থালাপতি’ বিজয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নাটকের পর অবশেষে অভিনেতা থেকে জননেতা হয়ে ওঠার এই যাত্রায় বিজয় এক নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন। জাঁকজমকপূর্ণ এই মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ বাম ও সহযোগী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব।
ছয় দশকের দ্রাবিড় রাজনীতির ধারায় বড় বদল
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত প্রায় ছয় দশক ধরে ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-র যে একাধিপত্য ছিল, বিজয়ের এই উত্থান তাতে বড়সড় ধাক্কা দিল। ১৯৬৭ সালের পর বিজয়ই প্রথম অ-দ্রাবিড়ীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের দায়িত্ব নিলেন। তাঁর দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গড়তে প্রয়োজন ছিল আরও ১০টি আসন। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বাম দল এবং ভি-সি-কে (VCK)-র নিঃশর্ত সমর্থনে বিজয় কুর্সিতে বসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করেন।
রাজনীতিতে সৌজন্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের সঙ্গে বিজয়ের উষ্ণ করমর্দন এবং সৌজন্য বিনিময় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তামিলনাড়ুতে অতীতে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সংঘাত নিয়মিত ঘটনা হলেও, বিজয়ের এই নমনীয় আচরণ এক নতুন ঘরানার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই জয় দক্ষিণের রাজনীতিতে কেবল ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর বিকল্প হিসেবে তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তবে জোট সরকারের স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং আসন্ন আস্থা ভোটে জয়ী হয়ে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই হবে তাঁর আগামী দিনের প্রধান পরীক্ষা।
